• কনৌজ থেকে হর্ষবর্ধন এসেছিল কিছু আগে। বেলাভূমি ছুঁয়ে যাওয়া নোনতা ঢেউ এর ভিতর কুচি কুচি অনু ঢেউ।...

  • সারাদিন অদ্ভুত রহস্যের ব্যথায় পালিয়ে বেড়াই বহুদিন ধরে গোপনে গোপনে রক্ত আর স্বেদ...

  • মানচিত্র আঁকা পৃথিবীর বেলুন দেখেছি; উঠেছে, বসেছে, চিৎকার করেছে : পরিমাণগত!...

  • আলো আসছে চোখে আলো সুড়ঙ্গ ঘুম ভেঙে.....

  • একটা চায়ের কাপ বিস্কুটের কামড় মেগা সিরিয়াল...

  • তার ঈশ্বর দু-হাতে বৃষ্টি নামালে লঘু দিগন্তে শেষ হয়ে যেত প্রান্তর...

রবিবার, ২৬ আগস্ট, ২০১৮


তুমি কি জান!

উড়তে থাকা একটা পাখি ডানা নাড়িয়ে বলে গেল
কী বলে গেল! যাই, নাকি আবার আসবো!

এই হাত বাড়ানো শীতল বিকেলে
পাইনের সারি আর দূরের শিখররাজির মাঝে
পাখিদের কুলে ফেরা, ওরা কি ঠোঁটে করে
নিয়ে গেল তোমার হারিয়ে যাওয়া চিঠি
যার খামের গন্ধ এখনো নাকে লেগে আছে
অনন্ত ভুলের রাশি ঠেলে উঠে দেখি তুমি ফেলে গেছ
ওই যে আবার একটা ফুল ফুটল
ওদের ফুটে ওঠার শব্দে এত ঘাবড়াই কেন বলতো
রেখে যাওয়া তোমার মন ছুঁয়ে রোজ রোজ
খাদের থেকে ভেসে আসা মেঘদল সূর্য পেরোয়
ওরা কি তোমার কাছে আমার কথা বলে!
বলে! গোধুলিতে ছড়ানো রঙ মেখে ক্রমশ দূরত্ব মুছে ফেলেছি

তুমি কি জান খেয়ালি উৎসব শেষে খুব শীগগির
তোমার মতোই এক নির্ভেজাল তারা হব!

তৃষ্ণা

কুম্ভকর্ণের মতো লম্বা ঘুম ভেঙে উঠে দেখি
অলস বিছানায় আমার  মৃত ছাত্রাবাস
বাথরুমে কাঁচের অবয়বে
অন্তহীন কামনার লেফটওভার
সুড়ঙ্গের মতো একা পথ সোজা চলে গেছে
তৃষ্ণার ক্ষেতে
সেখানে রাঙা হয়ে ফুটে আছে বাসনা
ভ্যাপসা গরমে সেদ্ধ হওয়া মিছিলের মুখ
বাইশ ডিগ্রিতে আরাম খুঁজে ফেরে

প্রতিবাদ, ছাত্র বিপ্লবের দিন পেরিয়ে এখন
নিপুণ ঘোড়সওয়ার হয়ে ওঠা অতন্ত্য জরুরী


অলঙ্করণ-সঞ্জীব





বুধবার, ২২ আগস্ট, ২০১৮



রৌদ্র গলা একটা জানালার গারদে আটকে আছি
ওদিকে তোমরা আমায় কয়েদি বলতেই পারো
অথচ আমি চিৎকার করে বলছি,
 আমি না,  
জানালার গরাদ দিয়ে আমি তোমাদের বন্দীদশা দেখি।
মৌরি বনের গন্ধ আছে
কিছু প্রসাধনী উগ্রতা নেমে এলো
এখান থেকে একটা দুনিয়ার সৃষ্টি হল
তারপর রঙে গেলো,
 শাড়ির আঁচল ঝুলে পড়ল রোদ্দুরে
আকাশ স্বপ্ন দেখাল,
 পাখিরা জীবন দেখাল  
তোমায় দেখতে ইচ্ছে হয় অরণ্য
আবার তাই বুঝি ফিরে আসা,
দিনের আলোর আড়ালে রাত্রিকে প্রার্থনা করি
জীবনগুলিতে রাত্রিতে হারিয়ে ফেলার রোদ
  
লাল আলোর অন্ধত্ব ছিঁড়ে যাচ্ছিল
অথচ একটা হাত ছুঁয়ে আছে তোমার জঙ্ঘা

আদুর গায়ে এই পৃথিবী ঘুরে যাচ্ছে
আসলে মাটির গন্ধ মাটিতে হারিয়ে যেতে-যেতে
সমস্ত দুর্বলতা রেখে গেছে একটা ঘর
তারপর বালিয়াড়ি ঘর,
 তার কালিমাখা কাঠামো  
আবারও নিয়ম উল্লঙ্ঘন হল। তোমার গামছা বেড়ের নিচে
একটা নিয়ম-শৃঙ্খলার বাইরে যেতে যেতে
তোমার কামশাস্ত্র ধুয়ে যাচ্ছে জলের গড়ানে
জন্মান্তর হচ্ছে,
 ক্রমশ কথাগুলি চরিত্রহীন হয়ে আসছে

সেখানে ভালোবাসা ছড়িয়ে যাচ্ছে পাত্রে পাত্রে
তুমি মুছে গেলও জন্ম নিচ্ছে শেওলা
রঙ মাছের পালকে ছড়িয়ে যাচ্ছে স্ফুলিঙ্গ
তুমি উড়ে যেতে যেতে এক বিন্দু
তখনই উড়ে গেলে তুমি
আর একটা পিপীলিকার পাখা ক্রমশ পুড়ে যাচ্ছে।


অলঙ্করণ-সঞ্জীব



শনিবার, ৭ জুলাই, ২০১৮


বুনো মদ ও স্বপ্ন, জাফরান ও আঁধার মিশিয়ে
যে অন্ধ যুবতীটি বানিয়েছিল এক অলৌকিক পানীয়,
তারই পোর্ট্রেট আঁকতে বসা, নিরিবিলি

কিন্তু চোখ সরে যায় ক্যানভাস থেকে,
বাইরে মাশরুম রঙের বর্ষা আর তার ভেতর
দুটি ডানা ঝাপটে চলা পাখি, আশ্রয়হীন
শার্সি তুলে দিয়ে অপেক্ষার কয়েক মুহূর্ত,
অথচ এক দমকা এসে হারিয়ে দেয়
কোথায়, অনেক নীচে, খাদের উপত্যকায়!

দুফোঁটা বৃষ্টি এসে পড়ে মেহগনি ঈজেলে,
আর খুব ধীরলয়ে গড়িয়ে পড়ার সময়
মনে হয় যেন তারা কোনও খেলায় মশগুল,
জুড়বার খেলা, সারা জীবন ধরে
একে-অপরকে ছোঁয়ার জন্য এগিয়ে যেতে যেতেই
ফুরিয়ে যায় প্যালেটের রঙে, শব্দহীন!


অলঙ্করণ-সঞ্জীব




মঙ্গলবার, ৩ জুলাই, ২০১৮



অন্ধকারের অলিন্দে যে রঙধনু
সাজানো থাকে, সেখানে
লাল, নীল, সবুজ কত রঙ....

গাছেরা সবুজ শুষে নিতে জানে।
শষ্পগন্ধে স্নানশুদ্ধ হয়ে যাওয়া
সবুজ হৃদপিণ্ডের নামই গাছ।
ঘন সবুজকে মানুষ বলে ডাকি।
বিপ্লবের অভিঘাত আগুন লাল,
আবার কোনো রিনরিনে চুড়ি
নিজেকে রাঙিয়ে হয় লাজবন্তী।
এরকম টকটকে লালকে ডাকি প্রেম।

আবেগ সিঁড়ির শেষে নীলাভ বিস্তার,
নীল তমিস্রায় বীজ বোনে চাষী।
ইচ্ছেডানার মানবিক শ্বাস প্রশ্বাসে
নিবিড় ভিজে যাওয়া, ওটাই স্বপ্ন।

তাই, প্রিয় নীলকে ডাকি অন্ধকার...



অলঙ্করণ-সঞ্জীব






শুক্রবার, ২৯ জুন, ২০১৮



যুদ্ধ থামার শ্বেতপত্র

নিজেকে খনন করি
যে তাপ আর মৃত্তিকা উঠে আসে
তার সঙ্গে শ্রম
হাড়-পাঁজরের ভগ্নাংশ
একত্রিত যত প্রচেষ্টা আর
প্রত্যাশার সমীকরণ
সব দেখি বেলাশেষের হাওয়ায় ওড়ে

নিশানে পত্পত্ জ্ঞাপিত হয় ইশারা
যুদ্ধ শুরুর রণ-হুঙ্কার
প্রতিপক্ষ মরিয়া হয়
প্রত্যাঘাত আলপথ দিয়ে ধেয়ে আসে
দূরে সন্ধিচুক্তি নিয়ে সন্ধ্যা নামে


সমস্ত খনন আর যুদ্ধ থামার শ্বেতপত্র।

বৃষ্টিচিহ্ন ও বিদায়বেলা

বৃষ্টির চিহ্ন দিয়ে কোনদিন ভালোবাসা মেপেও দেখিনি
নির্বিকার বৃক্ষতলে গিয়েও বসিনি
আমার যাপন ঘিরে ভয়
ত্রাস শুধু হেঁটে যায় নির্বিকল্প
বুকের গভীরে যে রক্তগোলাপ
তার কাঁটা ক্রমাগত দীর্ঘ হতে হতে
আমূল বিদ্ধ হয়
রক্তে জাগে প্রত্যাখ্যান শিহরিত বিদায় বেলা


অলঙ্করণ-সঞ্জীব






অনুসন্ধান

    কবিতা সংকলন ২০১৫

    কবিতা সংকলন ২০১৫

    যোগাযোগ

    ফেরারিতে আপনার অপ্রকাশিত কবিতা, গল্প পাঠাতে ই-মেল করুন ferarifacebook@gmail.com এ। লেখা যে কোনো ইউনিকোড এ লিখে ওয়ার্ড ফাইলটি পাঠান। লেখা মনোনীত হলে প্রকাশিত হবে ৭-১০ দিনের মধ্যে।

    লিখেছেন

    বিভাস রায় চৌধুরী, বিকাশ সরকার, রেহান কৌশিক, অভিমন্যু মাহাত,ঋজুরেখ চক্রবর্তী, অনিন্দ্য রায়, অনুপম মুখোপাধ্যায়, অয়ন বন্দ্যোপাধ্যায়, সৌভিক বন্দ্যোপাধ্যায়, দেবায়ুধ চট্টোপাধ্যায়, বিদিশা সরকার, ইন্দিরা মুখোপাধ্যায়, ঈশিতা ভাদুড়ী, সুবীর বোস,দয়াময় পোদ্দার, প্রত্যুষ বন্দ্যোপাধ্যায়, শৈলেন সাহ, প্রনব বসু রায়, মাহমুদ টোকন, ইন্দ্রনীল সেনগুপ্ত, কিরীটী সেনগুপ্ত, চন্দনকৃষ্ণ পাল,তাপসকিরণ রায়, দন্ত্যন ইসলাম, শর্মিষ্ঠা ঘোষ, সেলিম উদ্দিন মণ্ডল, সোমনাথ প্রধান,নবকুমার পোদ্দার,পিনাকী ঘোষ, দেবাশিষ মুখোপাধ্যায়, কিশোর ঘোষ,জুবিন ঘোষ, পলাশ দে,রঙ্গীত মিত্র, উল্কা, স্রোতস্বনী চট্টোপাধ্যায়, পবিত্র আচার্য্য, অবিন সেন, শান্তনু দে,শাঁউলি দে, অমিত ত্রিবেদী, শূদ্রক উপাধ্যায়, সৈকত ঘোষ, বাপ্পাদিত্য মুখোপাধ্যায়, মাহদী হাসান, সুমন্ত চট্টোপাধ্যায়,অনির্বাণ ভট্টাচার্য, আকাশ গঙ্গোপাধ্যায়,সুদীপ চট্টোপাধ্যায়, সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায় ও আরও অনেকে।

    ফেসবুক পাতা

    ফেরারি কথা

    ফেসবুক পত্রিকা দিয়ে ২০১৩ তে আমাদের যাত্রা শুরু। শ্রদ্ধেয় কবি প্রাবন্ধিক, সাহিত্যিক ও হাংরি জেনেরেশন এর অন্যতম শ্রী মলয় রায়চৌধুরি তাঁর অনলাইন বার্তায় পত্রিকার শুভ সূচনা করেন। তারপর ডিজি ম্যাগ,অবশেষে এই ব্লগজিন।২০১৫ কলকাতা বইমেলায় প্রকাশিত হয়েছে ফেরারির প্রথম মুদ্রিত কবিতা সংকলন। প্রতিষ্ঠিত লেখকদের ভিড়ে সম্ভাবনাময় লেখক লেখিকাদের তুলে ধরতে যেভাবে লিটিল ম্যাগাজিন কিম্বা বহুল প্রচলিত পত্রিকাগুলি হিমসিম খাচ্ছে তাতে বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তি অনেকটাই আশা জুগিয়েছে ।মূলত নতুন লেখকদের একটা জায়গা দিতেই ফেরারির এই উদ্যোগ। তাদের উৎসাহ যোগাতে লিখবেন সাম্প্রতিক কালের প্রতিষ্ঠিত লেখক লেখিকাও। এভাবেই খুলে যাবে বাংলা সাহিত্য চর্চার এক নতুন দিগন্ত। প্রবীণ থেকে নবীনে বয়ে যাবে বাংলা সাহিত্যের ধারা। মননশীল পাঠকের সুচিন্তিত মতামত ও প্রতিষ্ঠিত লেখকের অনুপ্রেরণা নবীন লেখক লেখিকাকে সাহায্য করবে আগামী দিনের বাংলা সাহিত্যের ধারক ও বাহক হয়ে উঠতে।

    উপদেষ্টা মণ্ডলী - পিনাকী প্রসাদ চক্রবর্তী,
    অনুপম মুখোপাধ্যায়, অনিন্দ রায়।

    অলঙ্করণ- মৌমিতা ভট্টাচার্য, নচিকেতা মাহাত, চিন্ময় মুখোপাধ্যায়, শ্রীমহাদেব, সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    সম্পাদক- সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়



    Back to Top